বিশ্বপ্রযুক্তি শিল্পে বিপর্যয়ের বছর ছিলো ২০২১
মহামারীর বছরে ঘরবন্দী মানুষের দৈনন্দিন জীবনের বড় অংশ জুড়ে ছিল নানা প্রযুক্তি পণ্য ও সেবা। মহামারীর আগে যে প্রযুক্তি জীবন হয়তো ছিল পেশাকেন্দ্রিক, ঘরবন্দী জীবনে বিনোদনের খোরাক জুগিয়েছে সেই একই প্রযুক্তি সেবা, লকডাউনে দূরত্ব কমিয়েছে কাছের মানুষের সঙ্গে।
তার মানে এই নয় যে, ২০২১ সালে সবদিক থেকেই সাফল্যের মুখ দেখেছে প্রযুক্তি শিল্প। ক্ষেত্রবিশেষে যেমন এসেছে সম্পূর্ণ ব্যর্থতা, তেমনি তথ্য ফাঁস, ইন্টারনেট আউটেজ ও র্যানসামওয়্যার আক্রমণে ভুক্তভোগী হয়েছে নেটিজেন এবং বিভিন্ন শীর্ষ প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলো।
সদ্য বিদায়ী বছরে এপ্রিলে সাইবার নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা জানান, অন্তত ৫০ কোটি ফেসবুক ব্যবহারকারীর ফোন নম্বর, জন্ম তারিখ ও ই-মেইল ঠিকানা একটি ওয়েবসাইটে ফাঁস হয়েছে। কাজটি একজন মাত্র হ্যাকারের। একই মাসে সমপরিমাণ ব্যবহারকারীর তথ্য ফাঁস হয় লিঙ্কডইন থেকে। এর ৫০ কোটি ব্যবহারকারীর অ্যাকাউন্ট জনসাধারণের জন্য উন্মুক্ত তথ্য সংগ্রহ করে ওয়েবসাইটের মাধ্যমে বিক্রি করছে হ্যাকাররা।
এর পরের মাসেই মে- তে ভুল মানুষকে সন্দেহভাজন অগ্নিসংযোকারী হিসেবে চিহ্নিত করেছিল রিয়েল টাইম ক্রাইম অ্যালার্ট অ্যাপ- ‘সিটিজেন’।
র্যানসামওয়্যারের আক্রমণের স্বর্গ-সময় পার করেছে বিদয়ী বছর। পাসওয়ার্ড রিসেটের নাম করে বিভিন্ন ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানকে টার্গেট করা হয় গেলো বছরকে। আমেরিকার অন্যতম বড় জ্বালানি পাইপলাইন প্রতিষ্ঠান কলোনিয়াল পাইপলাইনও এতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। পরে হ্যাকারদের ৪৪ লাখ ডলার মুক্তিপণ দিয়ে প্রতিষ্ঠানের নেটওয়ার্ক আবার সচল করে তারা।
দুই সপ্তাহের কম সময়ের মধ্যে দুইবার বিভ্রাটের কবলে পড়েছিল বৈশ্বিক ইন্টারনেট সংযোগ। এতে ইন্টারনেটের বড় একটা অংশ অচল হয়ে পড়ে। টেক প্রতিষ্ঠানে এরকম বড় রকমের আউটেজের খবর কেউ কখনও শোনেনি। জুনের ৮ তারিখে রেডিট, অ্যামাজন এবং এরকম আরও বেশ কয়েকটি প্রতিষ্ঠান আউটেজের কারণে তাদের কার্যক্রম বন্ধ রাখে। ১৭ জুন আকামাই টেকনোলজিসও পড়ে একই দুর্যোগে। আবার ডিসেম্বরে অ্যামাজনে তিনবার আউটেজের ঘটনা ঘটে। যার প্রভাব পড়ে ডিজনি প্লাস, স্ল্যাক, নেটফ্লিক্স, হুলুসহ অনেক কিছুর ওপর।
পুরো বছরে ৪ অক্টোবর দিনটাই হয়তো ফেসবুকের জন্য সবচেয়ে খারাপ দিন ছিল। ওই দিন গণমাধ্যমে ভুয়া তথ্য ও বিদ্বেষমূলক বার্তার প্রচার থেকে উদ্বুদ্ধ হয়ে বাস্তবজীবনের সহিংসতার পেছনে সামাজিক মাধ্যমটির ‘প্রশ্রয়দাতা’ ভূমিকা ফাঁস করে দেন ফেসবুকের সাবেক কর্মী ফ্রান্সেস হাউগেন। এরপর ফেসবুক, হোয়াটসঅ্যাপ এবং ইনস্টগ্রামে বড় রকমের আউটেজ হয়। স্থায়ী হয় প্রায় ঘণ্টাখানেক। হাউগেনের ইস্যুটি নিয়ে মার্কিন কংগ্রেস সদস্যদের পরীক্ষা-নিরীক্ষা এখনও চলছে।
এ বছরেই টেসলা প্রধান ইলন মাস্ক নিজস্ব প্রতিষ্ঠানের ‘ফুল সেলফ-ড্রাইভিং (এফএসডি)’ সফটওয়্যারের বিভ্রান্তি ধরিয়ে দেয় সিএনএন। নিউ ইয়র্কের রাস্তায় টেসলার মডেল ৩ নিয়ে পরীক্ষা চালিয়ে দেখিয়ে দেয় সম্পূর্ণ স্বনিয়ন্ত্রিত নয় সফটওয়্যারটি। বরং চালককে সহযোগিতা করার উপযোগী কিছু ফিচার আছে এতে।
অবশ্য চিপ সঙ্কট, ফেসবুক ফাইলস আর র্যানসমওয়্যার আক্রমণের বছরে প্রশ্নাতীত ভাবে ঊর্ধমুখী গতি ধরে রেখেছে বিভিন্ন সময়ে আলোচিত-সমালোচিত সেবা, টিকটক। অ্যাপটোপিয়া’র বৈশ্বিক তালিকা বলছে,ফেসবুককে টোপকে ২০২১ সালে টিকটক অ্যাপ ডাউনলোড করা হয়েছে ৬৫ কোটি ৬০ লাখ বার।